![]() |
| AI Generated Image |
আধুনিক
যুগে যুদ্ধ মানেই ট্যাঙ্ক, বিমান কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র নয়। বরং মানুষের চিন্তা,
মূল্যবোধ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করাও একধরনের যুদ্ধ হতে পারে।
সামরিক ভাষায় একে বলা হয় Cognitive Warfare-(মেধাযুদ্ধ) বা Cognitive Joint Force
Entry (CJFE)। প্রশ্ন হচ্ছে—বাংলাদেশ কি গত দুই দশক ধরে এমন
অদৃশ্য যুদ্ধের টার্গেট হয়েছে?
কগনিটিভ ওয়ার কী?
মার্কিন
আর্মি স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড (USASOC)–এর নথি অনুসারে, কগনিটিভ ওয়ার মানে হলো—মানুষের
মানসিক জগৎকে প্রভাবিত করা, যাতে তারা অজান্তেই প্রতিপক্ষের স্বার্থকে সমর্থন
করে।
1.
এতে মিডিয়া, এনজিও, শিক্ষা, সিভিল
সোসাইটি—সবই হয়ে যায় অপারেশনাল টুলস।
2.
যুদ্ধক্ষেত্র হয় মানুষের মস্তিষ্ক ও
সমাজব্যবস্থা।
3.
মার্কিন নথি “জেনারেশনাল স্ট্রাগল”–এর
কথা বলে, অর্থাৎ কয়েক দশক ধরে প্রভাব তৈরি করাই লক্ষ্য।
২৫ বছরের সময়রেখা—মিথ না বাস্তব?
কেউ কেউ
বলেন, কগনিটিভ ওয়ার সফল হতে অন্তত ২৫ বছর লাগে—এক প্রজন্ম বদলাতে যে সময় লাগে।
২০০০ সালে বাংলাদেশ লক্ষ্যবস্তু হলে ২০২৫-এর মধ্যে ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার কথা।
তবে অফিসিয়াল নথিতে নির্দিষ্ট ২৫ বছর লেখা নেই। আছে শুধু “প্রজন্ম-জুড়ে
প্রভাব” বা Generational Influence–এর কথা। সুতরাং, ২৫ বছরকে নির্দিষ্ট
নিয়ম না বলে বরং বিশ্লেষণাত্মক ব্যাখ্যা ধরা যায়। আসল ব্যাপার হলো একটা প্রজন্ম।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল ও USAID
যুক্তরাষ্ট্রের
USAID বহু বছর ধরে বাংলাদেশে কাজ করছে।
1.
ঘোষিত লক্ষ্য—গণতন্ত্র, মানবাধিকার,
সুশাসন ও উন্নয়ন জোরদার করা।
2.
সমালোচকেরা বলেন—এগুলো শুধু মানবিক
কাজ নয়; বরং দেশের সিভিল সোসাইটি ও নীতিনির্ধারণে মার্কিন প্রভাব বিস্তারের উপায়।
3.
২০২৫ সালে মার্কিন সিনেটে এমনকি
অভিযোগ উঠেছে, USAID–এর টাকায় তথ্য-নিয়ন্ত্রণ বা সেন্সরশিপ প্রকল্পও চলেছে।
তবে এগুলো অভিযোগ মাত্র; অফিসিয়ালভাবে USAID গণতন্ত্র ও উন্নয়নকেই নিজেদের লক্ষ্য
হিসেবে দেখায়।
পাকিস্তান ও আঞ্চলিক প্রভাব
বাংলাদেশে
পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই–এর প্রভাব দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। অনেকে মনে
করেন, মার্কিন সামরিক ডকট্রিনগুলো আইএসআই’র মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়।
এভাবে বাংলাদেশ একই সঙ্গে দুই শক্তির সফট ইনফ্লুয়েন্স যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে
উঠতে পারে।
ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু
৩১ অগাস্ট
২০২৫–এ ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে টেরেন্স আর্ভেল জ্যাকসন নামে এক মার্কিন
নাগরিকের লাশ উদ্ধার হয়।
1.
পুলিশের ভাষ্য—তিনি ব্যবসায়িক কাজে
এসেছিলেন এবং তার মৃত্যু স্বাভাবিক।
2.
কিছু বিদেশি সংবাদমাধ্যম দাবি করে,
তিনি মার্কিন First Special Forces Command (Airborne), 1SFC(A)-এর সদস্য
ছিলেন।
3.
তবে মার্কিন সেনাবাহিনী বা দূতাবাস
এখনো এ পরিচয় নিশ্চিত করেনি।
বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা
1.
তথ্য ও চিন্তার
নিরাপত্তা এখন জাতীয় নিরাপত্তার অংশ।
2.
বাইরের শক্তি শুধু অর্থনীতি বা সামরিক
ক্ষেত্রে নয়, বরং মিডিয়া, শিক্ষাব্যবস্থা, এনজিও ও সিভিল স্পেসে প্রভাব
বিস্তার করতে পারে।
3.
তবে এর মানে এই নয় যে বাংলাদেশ
নিশ্চিতভাবেই কোনো ঘোষিত কগনিটিভ যুদ্ধে জড়িয়ে আছে। বরং এটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক
প্রতিযোগিতার অংশ হতে পারে, যেখানে বাংলাদেশকেও নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখতে
হবে।
উপসংহার
মার্কিন
সামরিক নথিতে “কগনিটিভ ওয়ারফেয়ার” একটি বাস্তব ধারণা—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
কিন্তু বাংলাদেশকে ঘিরে ২০০০ সালে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক
প্রমাণ নেই।
২৫ বছরের সময়রেখা একটি বিশ্লেষণাত্মক ব্যাখ্যা মাত্র। ওয়েস্টিনে মার্কিন নাগরিকের
মৃত্যু আবার নতুন করে আলোচনায় এনেছে এই বিষয়গুলো—কিন্তু তার সামরিক পরিচয় এখনও
নিশ্চিত হয়নি।
সব মিলিয়ে
বলা যায়, বাংলাদেশকে অদৃশ্য যুদ্ধের ঝুঁকি মাথায় রেখে এগোতে হবে, তবে গুজব
ও যাচাইহীন দাবির ফাঁদেও পড়া যাবে না।









Leave a Reply